রোজনামচা নিজস্বী: একজন সফল জ্যোতিষী হিসেবে লোকে আমায় কিছুটা হলেও জানে ও মানে | একটা কথা বলতেই হয় জ্যোতিষ নিয়ে যখনই কিছু বলতে বা লিখতে বসি গর্বে আমার বুকটা ফুলে যায় কারণ আমার দেশের আমার ভারতবর্ষের জ্যোতিষ চর্চা বা  জ্যোতিষশাস্ত্র পৃথিবীর মধ্যে প্রাচীনতম | হ্যাঁ শুনতে  অবাক লাগে ভারতীয় জ্যোতিষ চর্চা প্রায় 5000 বছর ধরে চলে আসছে| পাশ্চাত্যে এবং পরবর্তীকালে চীন দেশে জ্যোতিষ চর্চা হয়েছে তার বয়স কিছু কম নয় কিন্তু আমি জোর গলায় বলতে পারি ভারতীয় জ্যোতিষ চর্চা প্রাচীনত্বে এবং কার্যকারিতার দিক থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ| শুধু তাই নয় পদ্ধতিগত দিক থেকেও ভারতের জ্যোতিষ চর্চা অনেক আলাদা ও বিজ্ঞানসম্মত | ভারতীয় জ্যোতিষ  শাস্ত্র কেন সবথেকে প্রাচীন কেন সব থেকে আলাদা এবং উন্নত সে নিয়েও  আলোচনা করা যেতে পারে|

পৃথিবীর প্রাচীনতম গ্রন্থ গুলির মধ্যে অন্যতম বেদ | এই বেদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আজ আর কারোর মধ্যে খুব একটা সংশয় নেই |আর ওই বেদেই  ভারতের জ্যোতিষ শাস্ত্রের উৎস লুকিয়ে আছে| বেদের ছটি সম্পূরক অংশ বা পরিশিষ্ট আছে যাকে বেদাঙ্গ বলেও আমরা জানি এই বেদাঙ্গ গুলোর মধ্যে অন্যতম জোতিষ বেদাঙ্গ যা মূলত ভারতীয় জ্যোতিষ শাস্ত্রের ভিত্তিপ্রস্তর|

ভারতীয় জ্যোতিষ শাস্ত্র অ্যাস্ট্রোলজি বিজ্ঞানসম্মত অ্যাস্ট্রোনমি এর উপর ভিত্তি করে সৃষ্টি হয়েছে তাই আমাদের জ্যোতিষ শাস্ত্র সবথেকে বেশি বিজ্ঞানসম্মত বা বিজ্ঞানমনস্ক | ভারতের জ্যোতিষশাস্ত্র সূর্যসিদ্ধান্ত মতে সিদ্ধান্ত নেয় আবার বিজ্ঞান ও বলছে এই সূর্যই হচ্ছে প্রাণের উৎসব সূর্যকে কেন্দ্র করেই প্রাণ আবর্তিত হয়, শুধু তাই নয় গোটা ইউনিভার্স কে 360 ডিগ্রি তে ভেঙে নেওয়া এটাও কিন্তু যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক দক্ষতার পরিচয় দেয়| এমনকি এইযে আমি বারবার কালার থেরাপির কথা বলি কালার থেরাপি ও কতটা বিজ্ঞান  সম্মত আমাদের জ্যোতিষশাস্ত্র সেই প্রাচীনকাল থেকে আমাদের শিখিয়ে আসছে| মঙ্গল নামক গ্রহ টার রং যে লাল তা বিজ্ঞান অনেক পরে বলেছে সবার আগে বলেছিল ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্র তাই মঙ্গলের পাথর বলতে আমরা রক্ত প্রবাল বা লাল পলা কে জানি| নটা গ্রহ এবং তাদের অবস্থান জ্যোতিষ শাস্ত্র বহু আগেই স্পষ্ট করেছে| ভাবতেও অবাক লাগে 4 – 5 হাজার বছর আগে ভারতীয় জোতিষী রা কোনো আধুনিক উপকরণ ছাড়া শুধু অংক কষে  কিভাবে এতো সঠিক বিজ্ঞান সম্মত জ্ঞান লাভ করে ছিলো |

গোলা, গণিত,  প্রশ্ন, জাতক, মুহূর্ত এবং নিমিত্ত এই ছটি হলো ভারতীয় জোতিষ শাস্ত্রের প্রধান ছটি শাখা যা সৃষ্টি হয়েছে কয়েক হাজার বছরের গবেষণা লব্ধ ফলাফল ও পর্যবেক্ষ  এর উপর ভিত্তি করে | বশিস্ঠ,ভৃগু, গর্গ প্রমুখ জ্যোতিষ রা বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করে এক অসাধারণ জ্ঞানের ভান্ডার তৈরী করে রেখে গেছে আগামী প্রজন্মের জন্য | তাদের সহায়ক হয়ে ছিলো আর্যভট্ট ও বরাহ মিহির এর মত বিশ্ব বিখ্যাত গণিত বিশারদ দের গবেষণা এবং জটিল ক্যালকুলেশন|

আমার কাছে আর্যভট্ট শুধু ফাদার অফ এস্ট্রোনমি নন প্রকৃত পক্ষে তিনি ফাদার অফ ancient Indian astrology | গ্রহ নক্ষত্র সম্পর্কে তার নিখুঁত পর্যবেক্ষণ ছাড়া ভারতীয় জোতিষ এতো দুর এগোতে পারতো না | কিন্তু দুঃখের বিষয় বার বার বৈদেশিক আক্রমনের ফলে তাদের বহু পুঁথি ধ্বংস হয়েছে, লুঠ হয়েছে | পরাশর ঋষি দ্বারা রচিত পরাশর হোরা শাস্ত্র খুব সামান্য ই উদ্ধার করা গেছে | আশ্চর্য এর বিষয় এতো কিছুর পর ও যেটুকু অবশিষ্ট তা নিয়েই আমরা অনেকের থেকে এগিয়ে | এর এক টা কারন হলো জোতিষ বিদ্যা মূলত গুরু মুখী বিদ্যা গুরু শিষ্য পরম্পরা কে ভিত্তি করে এই বিদ্যা প্রবাহিত হচ্ছে একটা জেনারেশন থেকে আরেকটা জেনারেশন এ | ঠিক যেমন পরাশর তার প্ৰিয় ছাত্র মৈত্রেয় কে দিয়ে গেছিলেন নিজের বিদ্যা |

সব শেষে বলতে হয় যদি গোটা পৃথিবী টাকে একটা বৃহৎ পাঠশালা হিসেবে দেখি অন্তত জ্যোতিষ বিদ্যার ক্ষেত্রে ভারতবর্ষ সেই পাঠশালার প্রধান শিক্ষক | ভারত থেকেই জোতিষ বিদ্যা ছড়িয়ে পড়ে ছিলো সুদূর ব্যাবিলনীয় সভ্যতা, ইরান, গ্রিক সভ্যতা এবং  মিশরীয় সভ্যতায় |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here