শ্রী অনিমেষ শাস্ত্রী

জোতিষ কে কেন্দ্র করে আমার জীবন, আমার ভালো মন্দ,  প্রতিদিনের বেঁচে থাকা| তাই বলা যেতে পারে প্রায়  দীর্ঘ 30 বছর গ্রহ নক্ষত্র নিয়ে ঘর করছি|প্রতিটি অমাবস্যা, পূর্ণিমা ও বিশেষ তিথিতে জড়িয়ে থাকি নানা জোতিষ সংক্রান্ত কর্ম কাণ্ডে|এবছরে শুরুতেই পড়েছে মৌনী অমাবস্যা |স্বাভাবিক ঘটনা|এই তিথি আমার কাছে ও সমগ্র জোতিষ এবং আধ্যাত্মিক জগতের কাছে অতি গুরুত্বপূর্ন |প্রতি বছর মহা সমারোহে এবং নিষ্ঠার সাথে পালন করে থাকি মৌনী অমাবস্যা | কিন্তু কেনো?  কি এই মৌনী অমাবস্যা?  কি বা তার মাহাত্ম্য? কি করা উচিত আর কি বা করা উচিৎ নয় এই বিশেষ তিথিতে? আমি তো জানি,হয়তো আমরা অনেকেই জানি কিন্তু  আপনারা সবাই  জানেন কি?

মাঘ মাসের কৃষ্ণপক্ষের অমাবস্যাকে মৌনী অমাবস্যা বলা হয়ে থাকে৷এবছর 23 জানুয়ারি মৌনী অমাবস্যা শুরু হয়েছে চলেছে  24 এ জানুয়ারি মধ্য রাত অবধি ৷ প্রচলিত বিশ্বাস ওই  সময়ে মৌনতা ধারণ করলেই নাকি বুদ্ধিমানের কাজ হবে৷ যদি মৌনব্রত না ধারণ করা যায় তাহলে অন্ততপক্ষে মুখ দিয়ে খারাপ শব্দ বা কটু কথা বলবেন না৷আর কিছু না হোক ঈশ্বরের আশীর্বাদ তো পাবেনই আর পাবেন মনের এক অদ্ভুত শান্তি|

অমাবস্যা একটা অস্ট্রোলোজিকাল ইভেন্ট| অমাবস্যায় সূর্য ও চন্দ্রের মিলন হয় ও দুটিই একটিই রাশিতে প্রবেশ করে বলে বিশ্বাস করে ভারতীয় জ্যোতিষ। জ্যোতিষের দৃষ্টি থেকে চন্দ্রকে চিত্তের অধীশ্বর ও সূর্য কে দেহ ও ব্যক্তিত্বের কারক গ্রহ  বলে ধরা হয়। অমাবস্যার রাতে চন্দ্র লুপ্ত হয়ে যায়। যেসব জাতকের নেতিবাচক চিন্তাধারা থাকে, তাদের উপর অশুভ শক্তির প্রভাব তাড়াতাড়ি পড়ে।

অমাবস্যার রাতকে ভূত-প্রেত, পিশাচাদি অতিপ্রাকৃত জীব, নিশাচর জীব-জন্তু আর দানবদের রাত বলেও  মানা হয়। সাধারণত এই সব শক্তি অমাবস্যার রাতে বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে বলে ধারণা।তন্ত্রে তাই অমাবস্যার গুরুত্ব অপরিসীম |

হাজার হাজার বছরের ঐতিহ্য অনুযায়ী এই তিথিতে সাধকরা মৌন ব্রত পালন করেন ৷ শাশ্বত জ্ঞানকে উপলব্ধি করতে এই ব্রত পালন করা হয় ৷ এই মৌনী অবস্থান আত্মার সঙ্গে পরমাত্মারা মিলনের পথ প্রসস্ত করে | বলা হয়, প্রকৃত সাধকরা এই তিথিতে কুণ্ডলিনী জাগ্রত করতে পারেন |

এই দিন সূর্য ও চন্দ্র মকর রাশিতে অবস্থান করে এবং এই তিথিতে নাকি দেবতারাও স্বর্গ থেকে নেমে এসে পুণ্যস্নান করেন গঙ্গা-যমুনা-সরস্বতীর ত্রিবেণী সঙ্গমে ৷ শাস্ত্রে বলে, এইদিন শুদ্ধাচার করলে কর্মফল থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব ও জন্ম মৃত্যুর বন্ধন থেকে মুক্তি লাভ করে পরম ব্রহ্ম তে  লীন হওয়া যায় |তাই  কর্ম ফল থেকে মুক্তি পেতে দেশের বিভিন্ন নদী সঙ্গমে এদিন স্নান করেন পুণ্যার্থীরা |

বলা হয়, এই পুণ্য তিথিতে মৌন ব্রত পালন করলে জীবনের সমস্ত আকাঙ্ক্ষা ও মোহ বশে থাকে ৷ ইন্দ্রিয়কে নিজের অধীনে রাখা যায় |আর ইন্দ্রিয় যার অধীনে তার জয় আটকায় কে |এই তিথিতে উপোস করে বা নিরামিষ খেয়ে মৌনব্রত পালন করা উচিত|মদ্যপান বা অন্য কোনও নেশা থেকে এইদিন বিরত থাকাই বাঞ্ছনীয়|এই বিশেষ তিথিতে যৌন সংগমে লিপ্ত হওয়া উচিত না ও পাপ চিন্তা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয় |আমার বিশ্বাস উপযুক্ত গুরুর সান্নিধ্যে থেকে বিশেষ পুজো ও হোম যোজ্ঞের মাধ্যমে এই বিশেষ তিথিতে বিশেষ ফল লাভ সম্ভব |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here