(এডিটোরিয়াল ) পন্ডিত অনিমেষ শাস্ত্রী

শাস্ত্র মতে ত্রিদেব অর্থাৎ ব্রহ্মদেব, বিষ্ণু ও মহেশ্বর এর অন্যতম ব্রম্হা, তিনি স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা, পরম ব্রহ্ম থেকে তার উৎপত্তি,তাই তিনি ব্রম্হা, আবার তার তৈরী দশ জন মানস পুত্র থেকে মানব গোষ্ঠীর উৎপত্তি |

কিন্ত এমন শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ন দেবতার পুজো মর্তে প্রচলিত নয়, কি অবাক কান্ড |কিন্তু কেনো এই অবজ্ঞা ও অবহেলা? কেনো তিনি বিষ্ণু ও শিবের তুলনায় জনপ্ৰিয়তায় এতো টা পিছিয়ে আর কেনই বা সেভাবে তার ভক্ত কুল তৈরী হলো না আজও, আজ শাস্ত্র ঘেটে খুঁজে এনেছি সেই সব প্রশ্নের উত্তর ঠিক যেমন টা কথা দেয়া ছিলো আগে থেকেই |

ব্রম্হার পূজা নাহওয়ার কারণে দুটি পৌরাণিক কাহিনী পাওয়া যায় এবং দুরকম ভাবে বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করা হয়,একটা ঘটনা অনেক টা এ রকম –

সৃষ্টি নির্মাণের সময় ব্রম্হা এক নারী কে তৈরী করেন নিজের সহায়তার জন্য এই নারী হচ্ছেন সরস্বতী যার পরে নাম হয় ব্রাহ্মনি,এই নারী ছিলেন অপরূপা সুন্দরী ও গুনবতি, ব্রম্হা নিজের সৃষ্টির প্রেমে পরে যান ও দৈহিক ভাবে তাকে কামনা করে বসেন এবং বহু চেষ্টা করে,এমনকি সরস্বতীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে তিনি তার লক্ষ পূরণ করেন |

তিনি সরস্বতী কে সৃষ্টি করেছিলেন অর্থাৎ তিঁনিই জনক তাই এই সম্পর্ক পাপ আর এই পাপের শাস্তি স্বরূপ তিনি অবহেলিত, পুজো হয়না তার |যদিও এই ব্যাখ্যা বহু বিতর্কিত ও একাধিক শাস্ত্রজ্ঞ দ্বারা সমালোচিত| অনেকেই মনে করেন এ শুধু তথ্য বিকৃত করার অপচেষ্টা |

আরেকটা পৌরাণিক ব্যাখ্যা আমরা পাই শিব পুরানে, এখানে বিষ্ণু ও ব্রম্হা এক প্রতিযোগিতায় নেমেছেন নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমান করার উদ্দেশ্য নিয়ে |দুজনে বেড়িয়ে পড়েছেন আদি শিব লিঙ্গের আদি ও অন্ত খুঁজতে যে আগে খুঁজে পাবেন তিনি শ্রেষ্ঠ |কিন্ত আদি অন্ত হীন শিব শক্তির নাগাল পাওয়া অসম্ভব, বিষ্ণু তা স্বীকার করে নিলেন কিন্তু ব্রহ্ম দেব ছলের আশ্রয় নিলেন, মিথ্যা বলে শ্রেষ্টত্ব প্রমান করতে চাইলেন |

এই মিথ্যা ও ছলের জন্য রেগে যান শিব,শিবের ক্রোধে এই পাপের শাস্তি স্বরূপ তার পুজো নিষিদ্ধ হয়, শুধু তাই নয় নিজের পঞ্চম মাথা টা খুইয়ে চারটি মাথা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় ব্রম্হা কে |

আজও মর্তে তিনি উপেক্ষিত, তবে ব্যতিক্রমও আছে, রাজস্থানের পুষ্করে ভারতের প্রাচীনতম ব্রহ্মা মন্দিরটি অবস্থিত, সেখানে বিশেষ তিথিতে তিনি পূজিত হন, এছাড়াও কয়েকটি বিশেষ কাজ তার পূজা ছাড়া হয়না যেমন বিবাহের লগ্নপত্রে, সূতিকাগৃহে, শিশুর জন্মের ষষ্ঠ দিনে এবং বাস্ত্তপ্রতিষ্ঠার সময় ব্রহ্মাকে স্মরণ করা হয়।