কাহিনী – পলাশ দাস

হটাত রাতের কোলকাতায় শুরু হয় এক অদ্ভুত সিরিয়াল কিলিং এর ঘটনা।যারা খুন হচ্ছে তাদের প্রত্যেকের শরীরে একটি বিশেষ ধরনের ট্যাটু। শহর জুরে আতঙ্ক । মিডিয়ায় হইচই।তদন্তে নামে পুলছসের গোয়েন্দা বিভাগ।অভিক নামে এক তরুন এক সি আই ডি অফসারের নেতৃত্বে শুরু হয় তদন্ত।বোঝা যায় এই কেসের সাথে ট্যাটুর এক গভীর সম্পর্ক আছে। তদন্তে সহজগিতার জন্য শহরের এক ট্যাটু শিল্পি অনির্বাণ কে নিজেদের সাথে নেয় পুলিস। তার ট্যাটু সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞ্যান ও পড়াশোনা রয়েছে।

এক দিকে খুনের ঘটনা বাড়তে থাকে অন্য দিকে এগোতে থাকে তদন্ত। একটা একটা করে ফেলে যাওয়া সুত্র ধরে অভিক ও তার দল অপরাধি কে লখ্য করে এগিয়ে যায়। কিন্তু অদ্ভুত ভাবে তদন্তের সব খবর সবার আগে খুনির কাছে পৌঁছে যায় কোন ভাবে।প্রতি বারেই শেষ মুহূর্তে হাত ফস্কে পালিয়ে যায় সেই সিরিয়াল কিলার।

একটা সময়ের পর কোন কারনে অফিসারের সন্দেহ হয় ট্যাটু আর্টিস্ট অনির্বাণ কে । এসবের পেছনে সেই নেই তো !

তদন্ত আরেকটু এগুলে বোঝা যায় অভিকের সন্দেহ ঠিক ছিল। আসলে এই সন্দেহ ঠিক ছিল। অনির্বাণ ই আসলে খুনি। এর পেছনে এক দীর্ঘ ইতিহাস আছে। অনির্বাণের অতিত ইতিহাস অভিকের সামনে উঠে আসে।

অনির্বাণের বাবা ছিল একজন বড় ট্যাটু আর্টিস্ট। বছর ২০ আগের ঘটনা । সেই সময়ে কলকাতার একটি বিশেষ অঞ্চলে রাজত্ব করতো এক কুখ্যাত গ্যাং। তাদের সদস্যদের শরীরে থাকত এক বিশেষ ধরনের ট্যাটু। ওই ট্যাটুগুলো একে দিত অনির্বাণের বাবা। তিনি ওই দলের অনেক খবর জেনে গেছিলেন কাজ করতে গিয়ে। পড়ে কোন কারনে কাজ করতে অস্বিকার করায় তাকে খুন করে ওই দলের লোকেরা। অনির্বাণ সব দেখে। তখন তার বয়স ১২ ।

পড়ে সে বড় হয়ে ট্যাটু আর্টিস্ট হয় এবং বাবার ডাইরি ও ক্লাইয়েনট লিস্ট দেখে সেই দলের লোকে দের এক এক করে বের করে খুন করতে শুরু করে। যারা এতদিন খুন হয়েছেন অনির্বাণের হাতে তারা সবাই ছিল সেই অপরাধি দলের সদস্য। অনির্বাণ একে একে তাদের খুন করে তার বাবার খুনের প্রতিশোধ নিচ্ছিল।

অভিক তদন্ত করতে করতে এই সব তথ্য জানতে পারে ও সব প্রমান সংগ্রহ করে। এও জানতে পারে পরবর্তী শিকার কে হবে। এখন বাকি অনির্বাণকে হাতে নাতে ধরা।

পরবর্তী শিকার কে মারার আগেই হাতে নাতে পুলিসের পাতা জালে ধরা পড়ে অনির্বাণ । জেরায় সে সব স্বীকার করে এবং ফ্ল্যাশ ব্যাকে আরও অনেক নতুন তথ্য উঠে আসে। জানা যায় কিভাবে প্রানের ঝুকি নিয়ে নিখুঁত পরিকল্পনা করে সে এতো গুলো খুন করেছে।

ধরা পড়ে অনির্বাণের কোন দুক্ষ নেই শুধু একটাই আক্ষেপ এখনো একটা বড় কাজ বাকি রয়ে গেছে। তার প্রতি শোধ নেয়া এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। দরকার ছিল আর একটা মাত্র সুযোগ।

Story right reserved to the writer
Palash Das
Cont. 8777873122
Email- [email protected]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here