লেখক পলাশ দাস

সময়টা দু হাজার কুড়ি সালের শুরুর দিকে|সংবাদ মাধ্যমে বিক্ষিপ্ত ভাবে করোনা ভাইরাসের খবর ছড়িয়ে পড়ছে, একটা একটা করে দেশ সংক্রমিত হচ্ছে|

এই সময়ে রণজয় দুবাই থেকে ফিরছে কলকাতায়,সে দুবাই এ কর্মরত|কলকাতায় স্ত্রী ইন্দ্রানী ও ছেলে রনি থাকে|স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক ভালো না|ডিভোর্স হবে সেই পেপার সাবমিট করতেই রণজয়ের কলকাতায় আসা|ছেলেও হোস্টেলে থাকে আপাতত মায়ের সঙ্গে রয়েছে|ইন্দ্রানী একটি উঠতি মডেল ছেলেকে ভালো বাসে ডিভোর্স এর পর তার সাথেই থাকবে,বিয়ে করবে|অন্য দিকে রণজয় ও দুবাই এ একটি মেয়ের সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছে|তাদের ডিভোর্স এর পর ছেলে বিদেশে যাবে পড়াশোনা করে সেখানেই সেটল করবে|এরকম প্ল্যান|

দুদিনের কাজ কলকাতায়, কাজ সেরেই রণজয় ফিরে যাবে দুবাই, পড়ে আবার আসবে একবার|কিন্তু কিছু আইনি সমস্যার জন্য দুদিনের কাজ শেষ হতে বেশ কয়েকদিন লেগে যায়|ইতিমধ্যে কলকাতায় ও সংক্রমণ ছড়ায়|বন্ধ হয় আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবা|এরপর হটাৎ সরকার লক ডাউন ঘোষণা করে দেয়|

দীর্ঘ দিন বিচ্ছিন্ন হয়ে বাঁচার পর রণজয় তার স্ত্রী ও ছেলে এক বাড়িতে এক পরিবার হিসেবে এক ছাদের নিচে বাস করতে বাধ্য হয় অনিদ্দিষ্ট কালের জন্য|উপায় নেই বাইরে লক ডাউন|সব বন্ধ|

একসাথে থাকত গিয়ে আবার নিজেদের মধ্যে একটা বোঝা পড়া তৈরী হয়|সময়এর অভাব, দূরত্ব ও পেশাগত ব্যস্ততার জন্য যে ফাটল তৈরী হয়েছিল সম্পর্কে তা ধীরে ধীরে আবার ভরতে শুরু করে|দুজনে দুজনের কিছুটা কাছা কাছি আসতে শুরু করে|দৈনন্দিন জীবনের অভ্যাস গুলো বদলাতে থাকে|

এর মধ্যেই অনেক গুলো ঘটনা ঘটে যায়|ছেলের জন্মদিন পালন হয় বাড়িতে|তাদের ম্যারেজ এনিভার্সারী ও পালিত হয়|দুজনে কলেজ জীবনের প্রেমের কথা ভেবে নস্টালজিক হয়ে পড়ে|

সব ঠিক হতে শুরু করে কিন্তু দুজনের জীবনেই এখন অন্য মানুষ এসেছে তাই ডিভোর্স নেবে তারা|একদিন হটাৎ রণজয় জানতে পারে দুবাই এ তার বান্ধবী প্রান হারিয়েছে ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে|ভেঙে পড়ে সে পাশে দাঁড়ায় ইন্দ্রানী|অন্যদিকে ইন্দ্রানীর প্রেমীক তাড়া দেয় তাকে ফ্লাট নিয়ে তার সাথে লিভইন এ থাকতে চায়|সব শুনে ফেলে বাড়ি ছেড়ে হোটেলে গিয়ে ওঠে রণজয়|এখন সরকারি বিধি নিষেধ কিছুটা সফল হয়েছে|

একদিন হটাৎ রনি মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়|
ইন্দ্রানী কারুর কাছে সাহায্য পায়না|প্রেমিক পুরোপুরি দায় এড়িয়ে যায়|এই সময় রণজয় সব জানতে পেরে আবার বাড়িতে ফিরে আসে|দুজনে মিলে লড়াই করে, প্রাণের ঝুকি নিয়ে ছেলে কে সুস্থ করে তোলে|

দুজনেই এতো দিনে একে অন্যের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পেরেছো আর তাদের প্রেম শেষ হয়ে যায়নি সাময়িক ভাবে হারিয়ে গেছিলো|ভয়ংকর সময়ে তারা আবার তাদের প্রেম কে আবিষ্কার করেছে|তাদের জীবনের ছোটো ছোটো ভাইরাস গুলো দূর করে তারা আবার এক হয়েছে|এই মহামারী সবার জন্য খারাপ হলেও তাদের আবার একটা নতুন সুযোগ দিয়েছে এক সাথে বাঁচার|

ডিভোর্স এর প্ল্যান বাতিল করে তারা আবার নতুন করে সব শুরু করবে ঠিক করে|

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here