যারা আমাকে ব্যাক্তিগত ভাবে চেনেন, তারা জানেন আমি খেতে ও খাওয়াতে ভালোবাসি|আমার তো মনে হয় শুধু আমি কেনো সব বাঙালির মধ্যেই একটা ভোজন রসিক সত্তা লুকিয়ে থাকে|বাঙালির প্রানের ঠাকুর কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও তার ব্যাতিক্রম নন|নতুন নতুন খাবার নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা ও আলোচনা ছিলো ঠাকুরবাড়ির এক ঐতিহ্য আর এদিক দিয়েও রবীন্দ্রনাথ ছিলেন বাকিদের থেকে অনেকটা এগিয়ে|আজ পঁচিশে বৈশাখ, তার জন্মদিনে তার চরিত্রের এই বিশেষ দিকটাতে
একটু আলোকপাত করবো নিজের মতো করে|

গুরুদেবের পছন্দের এবং অপছন্দের খাবারের তালিকা বেশ দীর্ঘ যা তার জীবনিকার থেকে রবীন্দ্র গবেষকদের কলমে একাধিকবার ধরা দিয়েছে| কবির প্ৰিয় আমিষ খাবারের মধ্যে ছিল কাঁচা ইলিশের ঝোল, চিতল মাছ আর চালতা দিয়ে মুগের ডাল এবং নারকেল চিংড়ি। তিনি কাবাব খেতেও পছন্দ করতেন। হিন্দুস্থানী তুর্কি কাবাব, চিকেন কাবাব, আনারস দিয়ে মাংস ছাড়াও তিনি ভালবাসতেন ঠাকুরবাড়ির হেঁশেলের রান্না হওয়া পাঁঠার মাংস|

কবিগুরু ফল খেতে ভীষণ ভালোবাসতেন। তার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকত পাকা পেপে, কলা, বাতাবি লেবু আর আম। তিনি আম কেটে কেটে দিলে খেতে পছন্দ করতেন না তার পরিবর্তে আম চুষে খেতে তিনি বেশি ভালোবাসতেন|

আর পাঁচজন বাঙালির মতো আচার খেতে বেশ ভালবাসতেন রবীন্দ্রনাথ তবে তার  সকালটা শুরু হতো এক গ্লাস নিম পাতার রস দিয়ে। কবিগুরু ছিলেন অসম্ভব পানের ভক্ত খাওয়ার পর সুন্দর করে সাজা এক খিলি পান না হলে তার চলতো না|

আজকে যে কাটলেট আমরা খাই তার সৃষ্টির সাথেও জড়িয়ে আছেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ|অনেকেই মনে করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একবার বসন্ত কেবিনে গিয়েছিলেন কাটলেট খেতে, এই কাটলেটের উপরে থাকা পাউরুটির প্রলেপ কবির একেবারে পছন্দ ছিল না, তাই কবির মনের মতন করে ডিমের গোলায় ডুবিয়ে বানিয়ে দেওয়া হয়েছিল কবিকে এক কাটলেট। সেটা খেয়ে কবির বেশ পছন্দ হয়েছিল। সেই থেকে এই কাটলেটের নাম দেওয়া হয় ‘কবিরাজি কাটলেট’|

কবি মাঝে মাঝেই অদ্ভুত সব খাবারের আবদার করে বসতেন স্ত্রী মৃণালিনী দেবীর কাছে , সেই নিয়েও অনেক মজার ঘটনা আছে|শোনা যায় একবার কবি মৃণালিনী দেবীকে মানকচুর জিলিপি বানাতে বললেন। শুনে মৃণালিনী দেবী তো হাসি থামে না। তবে চেষ্টা করে তিনি সাফল্য অর্জন করেছিলেন মানে এক্সপেরিমেন্ট সাকসেসফুল|

যতদিন পৃথিবীতে সাহিত্য থাকবে ততদিন রবীন্দ্রনাথ থাকবেন আমাদের অন্তরে|তার সাহিত্য, সমাজ সংস্কার এবং রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে আর নতুন করে বলার কিছু নেই|এক কথায় বলা যায় বিশ্বের সর্বকালের শ্রেষ্ঠতম সৃষ্টিশীল মানুষদের মধ্যে তিনি অন্যতম|জন্মদিনে গুরুদেবের চরনে আমার প্রণাম ও শ্রদ্ধাঞ্জলি রইলো|

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here