অনুগল্প – পলাশ দাস

শহরের এক কোনে একটি বাংলো গোছের দোতালা বাড়ি|এক বৃদ্ধ একাই থাকেন|বৃদ্ধর ছেলে শহরের অন্যপ্রান্তে তার পরিবার নিয়ে থাকে, উঁচু পদে চাকরি করে মাঝে মাঝে ফোনে বাবার খবর নেয়|আর কিছু টাকা পাঠায়|বাড়ির নিচের ঘরটা ফাঁকা মাঝে মাঝে বৃদ্ধ পেইং গেস্ট রাখেন|

সময়টা চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়|আবার মহামারী নতুন ভাবে ফিরে আসছে|বৃদ্ধ অতিরিক্ত সচেতন, খুব সাবধানে থাকেন, খুব একটা মেসেন না কারুর সম্পর্কে|নিজের ধর্ম কর্ম আর পড়াশোনা নিয়ে থাকেন|একটু প্রাচীন পন্থী|নিজের ছেলেকে নিয়ে তার খুব গর্ব|এই জেনারেশনের ছেলেদের মধ্যে ভালো কিছু তিনি দেখেন না|সবাই খারাপ সবাই বকে গেছে বলে তিনি মনে করেন|

এই পরিস্থিতিতে তার বাড়িতে ভাড়া আসে রোহিত নামে একটি ছেলে|পড়াশোনা করে|আপাতত বেকার|বোহেমিয়ান, উদাসীন জীবন|বখাটে বাউন্ডুলে প্রকৃতির|গান বাজনা, কবিতা আর কল্পনার জগতে থাকে|

এই ছেলেটির সাথে বৃদ্ধর এক অদ্ভুত সম্পর্ক তৈরি হয়|কখনো বিরক্তি|কখনো রাগ কথা কাটাকাটি আবার কখনো স্নেহ ও বন্ধুত্ব|অনেক কথাই আলোচনা হয় দুজনের মধ্যে|দুজনের দুটো আলাদা জীবন দর্শন ও দুটো আলাদা জেনারেশনের দৃষ্টিভঙ্গি উঠে আসে তাদের সম্পর্ক থেকে|বেকার, অপদার্থ ছেলেটি কে খোটা দিতে ও নিজের ছেলের সাফল্য তুলে ধরে কথায় কথায় অপমান সবাই চলতে থাকে|

কিছুদিনের মধ্যে মহামারী ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত পাল্টাতে থাকে সমাজের ছবিটা|চারপাশের মানুষে গুলোর মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে থাকে|একটা যুদ্ধের পরিবেশ সৃষ্টি হয়|এই সময়ে ভাড়াটে ছেলেটি তার এক বন্ধুকে তার ঘরে আশ্রয় দেয়| ছেলেটি মুসলিম|এই নিয়ে বৃদ্ধর সঙ্গে অশান্তি লাগে|বৃদ্ধ বাড়ি ছাড়তে বলে|হাতে দু দিন সময়|

এর মধ্যেই ভাইরাসে আক্রান্ত হন বৃদ্ধ সবাই তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়|তার নিজের ছেলেও দায় এড়িয়ে যায়|ভাড়াটে ছেলেটি ও তার মুসলিম বন্ধু বৃদ্ধর পাশে দাঁড়ায়|নিজেদের প্রানের ঝুকি নিয়ে বৃদ্ধকে সাহায্য করে ও তার প্রান বাঁচায়|শেষে দুজনেই আক্রান্তু হয়|বৃদ্ধ এতদিনে বুঝেছেন যাদের তিনি অপদার্থ ভাবতেন তারাই আসলে কাজের ছেলের সমাজের এই বখাটেদের প্রয়োজন আছে|তিনিও শেষে এই দুই বন্ধুর পাশে এসে দাঁড়ান|নিজের শেষ সম্বল টুকু হাসি মুখে তুলে দেন ওই অপদার্থ দুটোর হাতে|

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here