বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান

রাজনীতি বিশেষ করে বাংলার রাজনীতির মধ্যে ওই এলিট ব্যাপার টা প্রায় ডাইনোসর এর মতো লুপ্ত হয়ে গেছে… তাই খুঁজতে গেলে অতীত হাতরানো ছাড়া গতি নেই.. আর এই খোঁজ শুধু এপার বাংলায় সীমাবদ্ধ থাকতে পারেনা, কারন বাংলার রাজনীতির ব্যাপ্তি বিশাল ও বিস্তৃত তাই
এপার ওপার নিয়েই আলোচনা করা যায়…

আজ বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারণ করবো, তিনি কোনো সাধারন রাজনীতিবিদ ছিলেন না, তিনি রাষ্ট্র নায়ক ছিলেন, তিনি একটি স্বাধীন জনগোষ্ঠীর জনক ছিলেন,আর ক্লাস বা এলিট ব্যাপার টা তার মধ্যে যতটা ছিলো আর তার সমসাময়িক কারুর মধ্যে ততটা দেখিনা….

তিনি বলতেন ” আমি ফেরেশতা নই, শয়তানও নই। আমি মানুষ, আমি ভুল করবোই। আমি ভুল করলে আমার মনে রাখতে হবে, আই ক্যান রেকটিফাই মাইসেলফ। আমি যদি রেকটিফাই করতে পারি, সেখানেই আমার বাহাদুরি। আর যদি গোঁ ধরে বসে থাকি যে, না আমি যেটা করেছি সেটাই ভালো, দ্যাট ক্যানট বি হিউম্যান বিইং। ফেরেশতা হইনি যে সবকিছু ভালো হবে “

পাকিস্তানের জেল থেকে বাংলাদেশে ফিরে অল্পদিনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি থাকার পর তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
শেখ মুজিব ১৯৭২ সালে বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্বাধীন বাংলাদেশে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্রও শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার কথা বলেছিলেন, বলেছিলেন জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র গঠনের কথা।তার স্বপ্ন কতোটা বাস্তবায়িত হয়েছে জানিনা তবে আমরা আশাবাদী যে বঙ্গ বন্ধুর দেখানো পথে একদিন তার উত্তরসুরি রা হাটবেই….

ইতিহাসের ট্রাজেডি তার মৃত্যু, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন ১৯৭৫-সালে ১৫ই অগাস্টের রাতে ধানমন্ডির বাড়িতেই সেনাবাহিনীর একদল সদস্যের হাতে নিহত হয়েছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে|শেখ হাসিনা তখন বিদেশে তাই রক্ষা পেলেন|

যাই হোক মেন ট্র্যাকে ফিরে আসি, তিনি এলিট কারন, শেখ মুজিবকে রাজনীতিতে খুব ‘ক্যাজুয়াল’ মনে হয়। স্বভাবে দিলখোলা, লেখাতেও তাই । হিসাব করে কথা বলা, মেপে হাসা, এসব তাঁর ধাতে ছিল না। আত্মস্মৃতিতেও তিনি কত খোলামেলা, সব মানুষ সব দল তার কাছে এক, লড়াই টা আদর্শের ব্যাক্তিগত বা ব্যাক্তি স্বার্থের নয়, আর পা সব সময়ে মাটিতে, দুর্নীতি থেকে বহু দূরে|

শেখ মুজিব সমসাময়িক রাজনীতিবিদদের ছাপিয়ে অনেক ওপরে উঠে যেতে পেরেছেন তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে, তার পণ্ডিত্যর মধ্যে দিয়ে, তার শিক্ষার মধ্যে দিয়ে, এর ছাপ আমরা দেখি তাঁর লেখায়। আমরা দেখি যে তিনি কাজের মানুষ, করিতকর্মা, তিনি কাছের মানুষ তিনি অবলীলায় তার পরিচিত ড্রাইভার কে বলতে পারতেন,” চল বাড়ির ভেতরে নাস্তা খাবো ” আবার সিকিউরিটি গার্ডকে ডেকে বলতেন বাসায় দিশি মুরগি টা আজ খাসা হয়েছে আয় লাঞ্চ করি ” ওই যে বলেনা রাজার মেজাজ, তার ছিলো তাই…

তার রাজনৈতিক জীবন এতো ঘটনাময় যে সবটুকু ধরতে গেলে মহাকাব্য হয়ে যাবে, তার অবশ্য জন্য তার “অসমাপ্ত আত্ম জীবনী” আছে পড়ে নিলেই হয় …সেসব নিয়েও নাহয় বলবো কোনো এক সময়ে, ছুঁয়ে যাবো নিজের মতো করে|দ্বিতীয় পর্বে|

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here